বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ গত এক দশকে অনেক বেড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে শুরু করেছে যে ভবিষ্যতের দুনিয়ায় টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হচ্ছে প্রযুক্তি দক্ষতা। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা সাইবার সিকিউরিটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রোগ্রামিং অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, আগ্রহ বাড়লেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। শহরের কিছু শিক্ষার্থী সুযোগ পেলেও গ্রামের অধিকাংশ তরুণ এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলো প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের কোডিং শেখাচ্ছে। এস্তোনিয়া প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রোগ্রামিং শিক্ষা চালু করেছে। চীন শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিক্স ও এআই ভিত্তিক কারিকুলাম তৈরি করেছে। ভারত সরকার কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে কোডিং শেখানোর জাতীয় পরিকল্পনা নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এখনো প্রোগ্রামিংকে একটি মৌলিক দক্ষতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তরুণরা আগ্রহী হলেও সঠিক পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের বৈষম্যও এখানে বড় বাধা। ঢাকাসহ বড় শহরে কিছু আইটি ট্রেনিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ল্যাব কিংবা কো-ওয়ার্কিং স্পেস আছে। কিন্তু গ্রামের শিক্ষার্থীরা পুরনো কম্পিউটার, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং সীমিত শিক্ষকের উপর নির্ভর করছে। অনেকে ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিখতে চেষ্টা করে, কিন্তু ইংরেজি দুর্বলতা ও লজিক্যাল চিন্তার অভাবে বেশিরভাগই মাঝপথে থেমে যায়। এর ফলে শেখার আগ্রহ থাকলেও সেটি পূর্ণতা পায় না। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখনও সবার কাছে পৌঁছেনি। অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার নেই, আর যারা আছে তাদের ডিভাইসগুলো বেশিরভাগ সময় পুরনো এবং ধীরগতির। ফলে সফটওয়্যার ইন্সটল করা, কোড রান করা বা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার মতো মৌলিক কাজগুলো করতে গিয়েই তারা সমস্যায় পড়ে। একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতার অভাব, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের স্বল্পতা এই দ্বৈত সংকটে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের বিশাল একটি অংশ। বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। তরুণরা বিশ্বাস করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত আয় করা সম্ভব, তাই তারা এই দিকেই ঝুঁকছে। নিঃসন্দেহে এতে আর্থিক উপার্জন হচ্ছে, অনেকেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। কিন্তু এর বাইরে গবেষণা, উদ্ভাবন কিংবা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। যখন ভারত, চীন কিংবা ভিয়েতনাম নিজেদের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে, তখন আমরা আউটসোর্সিংয়ের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছি। তবে সম্ভাবনা কম নয়। বাংলাদেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়, তবে তরুণদের এই আগ্রহকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রোগ্রামিংকে আধুনিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃভাষায় মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে। গ্রাম পর্যন্ত দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে এবং সাশ্রয়ী দামে কম্পিউটার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা, স্টার্টআপ কালচার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে হবে। সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, বাস্তবতার চ্যালেঞ্জও তেমনি বড়। যদি আমরা সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে বাংলাদেশ শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এটাই হতে পারে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী বড় অর্জন। আমি সামির তালুকদার অপূর্ব। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 12 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 2 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি। তরুণ লেখক এবং ন্যাশনাল পুরষ্কার প্রাপ্ত সার্টিফাইড প্রোগামার
বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং: স্বপ্ন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথচলা | Techtunes
বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ গত এক দশকে অনেক বেড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে শুরু করেছে যে ভবিষ্যতের দুনিয়ায় টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হচ্ছে প্রযুক্তি দক্ষতা। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা সাইবার সিকিউরিটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রোগ্রামিং অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, আগ্রহ বাড়লেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। শহরের কিছু শিক্ষার্থী সুযোগ পেলেও গ্রামের অধিকাংশ তরুণ এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলো প...

লেখক সম্পর্কে
TA Shanto
Administrator
’m a passionate Full-Stack Developer with a strong focus on building fast, scalable, and user-friendly web applications.I specialize in modern JavaScript technologies like React, Next.js, and Tailwind CSS ✨. and I love working within the React ecosystem. On the backend, I have solid experience with Node.js, Express.js, and Prisma⚡. allowing me to build reliable and efficient APIs and services. Recently, I’ve been primarily working with a stack I truly enjoy: Typescript, Nextjs, TailwindCss, Node.js, Express.js, and Prisma ⚡ I really love this stack. I strongly believe in continuous learning and self-improvement. Whether the situation is ideal or challenging, I always strive to grow and adapt. Every project is an opportunity to learn something new and build something impactful. Feel free to reach out — I’d love to connect! iamtashanto@gmail.com