পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালের শেষদিকে ইইউ একটি নির্দেশনা (ডিরেক্টিভ ২০২২/২৩৮০) জারি করে। এই নির্দেশনার আওতায় প্রতিটি পোর্টেবল ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ও ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি চার্জিং পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও এই বিধান প্রাথমিকভাবে শুধু ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য, এর সুবিধা কিন্তু উপভোগ করছে বিশ্বের বাকি দেশগুলোও। বর্তমানে নতুন সব স্মার্টফোন ও ল্যাপটপে ইউএসবি-সি চার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্মার্টফোনের অ্যাপ স্টোরে একচেটিয়া আধিপত্য বন্ধ করা এবং ভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে পরস্পর ব্যবহারযোগ্য বৈশিষ্ট্য বাধ্যতামূলক করার পেছনেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গত ২১ এপ্রিল ইইউ আরও কয়েকটি নতুন শর্ত জারি করেছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলিতে স্মার্টফোন বিক্রি করতে হলে সেগুলোর ব্যাটারি যেন কোনো জটিল সরঞ্জাম ছাড়াই সহজে প্রতিস্থাপন করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার সঙ্গে সঙ্গেই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দশ বছর পর্যন্ত ডিভাইস মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ জোগান দিতে হবে। ব্যবহারকারী নিজে চাইলে যেন তার ডিভাইস মেরামতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি ডিভাইস মেরামতের বিস্তারিত পদ্ধতি নির্মাতাদের সহজলভ্য করে দিতে হবে। স্মার্টফোনের ব্যাটারি এমনভাবে নকশা করতে হবে যাতে তা দীর্ঘদিন টেকে। আটশো বার চার্জ দেওয়ার পরও ব্যাটারির সক্ষমতা যেন কমপক্ষে আশি শতাংশ থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এই নিয়মগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোকে বেশি মজবুত, সহজে মেরামতের উপযোগী এবং দীর্ঘস্থায়ী করা। ব্যবহারকারীদের দ্রুত মেরামতসেবা দিতেও হবে; ডিভাইস মেরামত করতে বা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে পাঁচ থেকে দশ কর্মদিবসের বেশি সময় নেওয়া যাবে না। নতুন এই নিয়ম নিয়ে আলোচনা ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মনে করছেন, এটি আবারও সহজে বদলানো যায় এমন ব্যাটারির যুগে ফেরার ইঙ্গিত বহন করছে। তবে টেক রাডারের প্রযুক্তি বিশ্লেষক ডেভিড নিলডের মতামত ভিন্ন। তাঁর মতে, এই আইন চালু হলেও স্মার্টফোনে fixed ব্যাটারির যুগের অবসান ঘটবে না। বরং নির্মাতারা হয়তো ফোনের বক্সের ভেতর ফোন খোলার ছোট ছোট সরঞ্জাম দিতে বাধ্য হবেন। আর এই নিয়ম শুধু স্মার্টফোনের জন্যই প্রযোজ্য নয়, বরং যেসব ডিভাইসের ব্যাটারির ওজন পাঁচ কেজির কম এবং যা যানবাহন বা কারখানার কাজে ব্যবহৃত হয় না, সেসব ক্ষেত্রেও এই আইন কার্যকর। ফলে ক্যামেরা, ট্যাবলেট, মিউজিক প্লেয়ার, ল্যাপটপ কিংবা পাওয়ার ব্যাংক—সবকটিরই ব্যাটারি সহজে বদলানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। গেমিং কনসোল ও তাদের কন্ট্রোলারের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মানতে হবে; নিনটেন্ডো ইতিমধ্যেই তাদের সুইচ ২ কনসোলের ব্যাটারির নকশা পরিবর্তনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। আটশো বার চার্জ দেওয়ার পরও ব্যাটারির আশি শতাংশ কার্যক্ষমতা ধরে রাখার শর্ত অনেক নির্মাতার জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপলের ব্যাটারিগুলো সাধারণত একহাজার চার্জ চক্র পর্যন্ত ভালো থাকে। কিন্তু মাঝারি ও সস্তা মূল্যের অনেক স্মার্টফোনের ব্যাটারি তিনশো থেকে পাঁচশো চার্জের মধ্যেই ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই আইন কঠোরভাবে কার্যকর হলে নির্মাতাদের উন্নত মানের ব্যাটারি ব্যবহার ছাড়া উপায় থাকবে না, যার ফলে কমদামি ফোনগুলোর দামও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। আমি মো তানজিল সিরাজ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 10 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 13 টিউনারকে ফলো করি।
ইইউর নতুন ব্যাটারি নীতি | Techtunes
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালের শেষদিকে ইইউ একটি নির্দেশনা (ডিরেক্টিভ ২০২২/২৩৮০) জারি করে। এই নির্দেশনার আওতায় প্রতিটি পোর্টেবল ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ও ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি চার্জিং পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও এই বিধান প্রাথমিকভাবে শুধু ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য, এর সুবিধা কিন্তু উপভোগ করছে বিশ্বের বাকি দেশগুলোও। বর্তমান...

লেখক সম্পর্কে
TA Shanto
Administrator
’m a passionate Full-Stack Developer with a strong focus on building fast, scalable, and user-friendly web applications.I specialize in modern JavaScript technologies like React, Next.js, and Tailwind CSS ✨. and I love working within the React ecosystem. On the backend, I have solid experience with Node.js, Express.js, and Prisma⚡. allowing me to build reliable and efficient APIs and services. Recently, I’ve been primarily working with a stack I truly enjoy: Typescript, Nextjs, TailwindCss, Node.js, Express.js, and Prisma ⚡ I really love this stack. I strongly believe in continuous learning and self-improvement. Whether the situation is ideal or challenging, I always strive to grow and adapt. Every project is an opportunity to learn something new and build something impactful. Feel free to reach out — I’d love to connect! iamtashanto@gmail.com