পরিমিত পরিমাণে চা-কফি পান করলে তা সাধারণত মনকে চাঙ্গা রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চা-কফি পান করলে শরীরে কফিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অনিদ্রা, হজমের সমস্যা বা বুকধড়ফড়ের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
পরিমিত পানের সম্ভাব্য উপকারিতা
চা এবং কফিতে প্রাকৃতিকভাবে কফিন ও বেশ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের জন্য কিছু সুফল নিয়ে আসতে পারে। তবে এই প্রভাবগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে:
- সতেজতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি: কফিন মস্তিষ্কের স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে মানসিক সতর্কতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান: বিশেষ করে গ্রিন টি এবং ব্ল্যাক কফিতে বিদ্যমান উপাদান কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
- কাজের গতি ও শক্তি: সাময়িকভাবে অলসতা কাটিয়ে কাজে উদ্দীপনা আনতে চা বা কফি পান উপযোগী হতে পারে।
অতিরিক্ত পানের অপকারিতা ও ঝুঁকি
প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত চা-কফি খেলে শরীরে কিছু অপ্রীতিকর লক্ষণ বা স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
- ঘুমের ব্যাঘাত বা অনিদ্রা: কফিনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে অনেকের রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
- পেটের সমস্যা ও এসিডিটি: খালি পেটে বা অতিরিক্ত চা-কফি খেলে পাকস্থলীতে এসিডের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে, যা থেকে বুকজ্বালা বা গ্যাসের সমস্যা হয়।
- উদ্বেগ ও বুকধড়ফড়: অতিমাত্রায় কফিন গ্রহণ করলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়ে স্নায়ুবিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
- আয়রন শোষণে বাধা: চায়ে থাকা ট্যানিন জাতীয় উপাদান খাবার থেকে আয়রন শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভোগা মানুষদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
কাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত
কিছু বিশেষ শারীরিক অবস্থায় চা-কফি খাওয়ার অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা: অতিরিক্ত কফিন গ্রহণ গর্ভস্থ শিশু বা নবজাতকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট মাত্রা মেনে চলার পরামর্শ দেন।
- উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের রোগী: কফিন সাময়িকভাবে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বাড়াতে পারে, তাই এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানে সচেতন থাকা ভালো।
- ডায়াবেটিস ও পাকস্থলীর রোগী: প্রচুর চিনি ও ঘন দুধযুক্ত চা বা কফি রক্তের শর্করা বাড়াতে পারে এবং পেটের আলসার বা অতিরিক্ত এসিডিটির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- বিশেষ ওষুধ সেবনকারী ও অ্যালার্জি আক্রান্তরা: নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধ বা অ্যালার্জির ওষুধের সাথে কফিন বিক্রিয়া করতে পারে।
প্রতিদিন কতটা চা-কফি খাওয়া নিরাপদ?
সাধারণ পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২০০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম কফিন গ্রহণ সাধারণ সীমারেখা হিসেবে ধরা হয়। সহজ হিসাবে এটি দিনে প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ চায়ের সমতুল্য হতে পারে। তবে কফির গাঢ়ত্ব বা চায়ের ধরনের ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণের তারতম্য হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, ঘন দুধ বা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত উপাদান এড়িয়ে লাল চা বা ব্ল্যাক কফি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো।
সাধারণ প্রশ্ন
১. খালি পেটে চা বা কফি খাওয়া কি ক্ষতিকর?
অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে চা-কফি খেলে পাকস্থলীতে এসিডের প্রবাহ বেড়ে বুকজ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই হালকা কিছু খাওয়ার পর চা বা কফি পান করা শ্রেয়।
২. চা-কফি কি শরীরের পানি শূন্যতা তৈরি করে?
কফিনের মৃদু প্রস্রাববর্ধক গুণ রয়েছে। তবে পরিমিত পরিমাণে পান করলে এটি সাধারণত সরাসরি ক্ষতিকর পানিশূন্যতা তৈরি করে না। তবে চা-কফির পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা আবশ্যক।
৩. রাতে চা বা কফি খাওয়া কি বাদ দেওয়া উচিত?
কফিনের প্রভাব শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। তাই ভালো ঘুমের স্বার্থে ঘুমানোর অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আগে চা-কফি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
উপসংহার
চা ও কফি আমাদের ক্লান্তি দূর করে চাঙ্গা রাখতে দারুণ কাজ করে, তবে এটিকে অভ্যাসে পরিণত করে অতিমাত্রায় গ্রহণ করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে পরিমিত পরিমাণে পান করলে এর থেকে উপকার পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আপনার যদি কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা থাকে বা নিয়মিত কোনো ওষুধ খেতে হয়, তবে প্রতিদিন কতটুকু চা-কফি পান করবেন তা জানতে একজন নিবন্ধিত ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
কভার ছবি: VD Photography / Unsplash
