পিরামিড কিভাবে তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে বহু রহস্য। প্রাচীন মিশরের রাযাদের উপাধি ছিল ফারাও বা ফেরাওন। ফেরাওনদের মৃত্যুর পর তাঁদের মৃতদেহ মমি করে পিরামিডের ভিতর সমাহিত করা হত। প্রত্যেক ফেরাউনই তার আগের ফেরাউনের চেয়ে সেরা পিরামিড তৈরি করতে চাইতো। কারণ তাঁরা মনে করত ফেরাউনরা মৃত্যুর পর মৃতদের রাজা হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করে। তাঁদের মতে পিরামিড হল ফেরাউনদের পুনর্জন্মের প্রবেশদ্বার। এছাড়া ফেরাউনদের মৃত্যুর পর যত দিন তাঁদের দেহ সংরক্ষন করা যাবে ততদিন তাঁরা স্বর্গে বাস করবে। সেজন্যই হাজার হাজার বছর ফেরাউনদের মৃতদেহ সংরক্ষন করার জন্য তাঁরা এমন দুর্ভেদ্য পিরামিড তৈরি করত। মিসরিওরা যত পিরামিড তৈরি করেছে তার অনেকগুলাই ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রথম দিকের পিরামিডের তুলনায় পরের গুলাই বেশি টেকসই এবং সুরক্ষিত করে নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ মিসরিওরা সময়ের সাথে সাথে তাঁদের পিরামিড তৈরির শিল্পে দক্ষ হয়েছে। ৪৭০০ বছর আগে দ্যা গ্রেট পিরামিড নির্মিত হয়েছিল। সবচেয়ে বড় এই পিরামিডের আয়তন ৬ টি ফুটবল মাঠের সমান। এবং উচ্চতায় ৪২ তলা ভবনের সমান উচু। ১৮৮৯সালে আইফেল টাওয়ার নির্মাণের আগ পর্যন্ত এই পিরামিড ই ছিল পাচ হাজার বছর ধরে মানুষের তৈরি সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা। খুফুর পিরামিড তৈরি করতে প্রায় তেইশ লক্ষ পাথরের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্লক গুলো প্রায় পাঁচশো মাইল দূর থেকে নির্মাণ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। আড়াই থেকে পঞ্চাশ টন ওজনের প্রায় তেইশ লক্ষ ব্লক তাঁরা মরুভুমির ভেতর দিয়ে কিভাবে নিয়ে এসেছে তা সত্যি এক বিশ্বয়। পিরামিড গুলো বাইরে থেকে দেখতে নিরেট মনে হলেও ভেতরে তেমন নয়। পিরামিডের ভিতরে বহু সরু পথ ও গোপন কুঠুরি বা চেম্বার রয়েছে। খুফুর পিরামিডের ভেতরে তিনটি চেম্বার আছে। চেম্বার গুলো হল দ্যা গ্রান্ট গ্যালারী, রানীর চেম্বার ও রাজার চেম্বার। ৩০০ ফুট দীর্ঘ ও ৩ ফুট প্রস্থে নিরেট পাথর কেটে চেম্বার গুলোর প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছে। সাধারনত পিরামিডের কেন্দ্রীয় চেম্বারে ফারাওদের মৃতদেহ রাখা হয়। এই চেম্বারে পৌঁছাতে দেড়শ ফুট সিঁড়ি পার হয়ে যেতে হয়। এছাড়া খুফুর পিরামিডে অনেক গুলো গোপন পথ ও সুরঙ্গ রয়েছে। যার রহস্য এখনও সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয় গ্রেট পিরামিড নির্মাণ করতে তেইশ বছর সময় লেগেছিল। বিশাল এই নির্মাণ কাজে ২০ থেকে ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক কাজ করেছে। পিরামিডের বাইরের এক একটি পাথরের ব্লকের ওজন একটি প্রাইভেট কার এর সমান। আর ভেতরের একটি ব্লক এর ওজন ৪০ টি প্রাইভেট কার এর সমান। ভারী ভারী পাথর দিয়ে নির্মাণ করার কারণে পিরামিডের ওজনও অনেক বেশি। গ্রেট পিরামিডের ওজন প্রায় সাড়ে ৫৭ লক্ষ টন। যা বর্তমান সময়ের সর্বচ্চ ভবন বুরজ খলিফার ওজনের প্রায় বারো গুন। বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রেন দিয়ে সর্বচ্চ ১০ টন ওজন ১০০ মিটার পর্যন্ত তোলা যায়, অথচ তাঁরা এত ভারী পাথর প্রায় ১৫০ মিটার উচ্চতায় তুলে অত্যন্ত নিখুদ ভাবে জোড়া দিয়েছে। যা সত্যি বিষয়কর। পিরামিডের বাইরের দেয়াল তৈরি করা হয়েছে চুনা পাথরের ব্লক দিয়ে। আর মূল্যবান গ্রানাইট পাথর দিয়ে ভিতরের চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। পিরামিড নিয়ে দীর্ঘকাল গবেষণা করেও এর বহু রহস্য আজও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। আমি ঘুটনি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 11 মাস 4 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 3 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি। আমার লিখতে ভালো লাগে।
পিরামিড এক অজানা রহস্য
পিরামিড কিভাবে তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে বহু রহস্য। প্রাচীন মিশরের রাযাদের উপাধি ছিল ফারাও বা ফেরাওন। ফেরাওনদের মৃত্যুর পর তাঁদের মৃতদেহ মমি করে পিরামিডের ভিতর সমাহিত করা হত। প্রত্যেক ফেরাউনই তার আগের ফেরাউনের চেয়ে সেরা পিরামিড তৈরি করতে চাইতো। কারণ তাঁরা মনে করত ফেরাউনরা মৃত্যুর পর মৃতদের রাজা হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করে। তাঁদের মতে পিরামিড হল ফেরাউনদের পুনর্জন্মের প্রবেশদ্বার। এছাড়া ফেরাউনদের মৃত্যুর পর যত দিন তাঁদের দেহ সংরক্ষন করা যাবে ততদিন তাঁরা স্বর্গে বাস করবে। সেজন্যই হাজার...

লেখক সম্পর্কে
TA Shanto
Administrator
’m a passionate Full-Stack Developer with a strong focus on building fast, scalable, and user-friendly web applications.I specialize in modern JavaScript technologies like React, Next.js, and Tailwind CSS ✨. and I love working within the React ecosystem. On the backend, I have solid experience with Node.js, Express.js, and Prisma⚡. allowing me to build reliable and efficient APIs and services. Recently, I’ve been primarily working with a stack I truly enjoy: Typescript, Nextjs, TailwindCss, Node.js, Express.js, and Prisma ⚡ I really love this stack. I strongly believe in continuous learning and self-improvement. Whether the situation is ideal or challenging, I always strive to grow and adapt. Every project is an opportunity to learn something new and build something impactful. Feel free to reach out — I’d love to connect! iamtashanto@gmail.com