আপনার বাসায় কি পুরনো একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন পড়ে আছে। যেটা আর ব্যবহার করেন না। বিক্রি করলে বেশি দাম পাবেন না। আবার ফেলে দেওয়াও যায় না। তাহলে আজকে এমন একটা কাজ শিখে নিন যেটা দিয়ে সেই ফোনটাই কাজে লাগবে। আজকের এই টিউটোরিয়ালে দেখাবো কিভাবে আপনার পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এর জন্য আলাদা কোনো ক্যামেরা কেনার দরকার নেই। ইন্টারনেট সংযোগ আর একটা অ্যাপ থাকলেই হবে। ঘরে থাকেন বা বাইরে থাকেন নিজের ফোন থেকেই বাসার সবকিছু দেখতে পারবেন। ভাবেন তো একবার। বাসায় না থাকলেও হাতের ফোনে দেখতে পাবেন বাচ্চা ঘুমাচ্ছে কি না। দরজা বন্ধ আছে কি না। কেউ ঢুকছে কি না। এই ফিচার কিন্তু এখন আর শুধু দামি সিসিটিভির একার নয়। আপনার পুরনো ফোনটাই যথেষ্ট। আসল কথা হলো এখনকার প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই ক্যামেরা আর ইন্টারনেট আছে। আর এই দুইটা জিনিস থাকলেই সিসিটিভি বানানো সম্ভব। ব্যস আর কিছু লাগবে না। কেন পুরনো ফোনকে সিসিটিভি বানাবেন আগে জেনে নিন এতে কী কী সুবিধা পাবেন। এক হলো খরচ কম। নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা কিনতে হাজার হাজার টাকা লাগে। আর এখানে পুরনো ফোনটাই কাজে লাগবে। দুই হলো সহজ সেটআপ। কোনো টেকনিশিয়ান লাগবে না। নিজেই দশ মিনিটে সেটআপ করতে পারবেন। তিন হলো মোবাইল অ্যাক্সেস। যেখানেই থাকেন না কেন ফোন দিয়েই বাসা দেখতে পারবেন। চার হলো মোশন ডিটেকশন। কেউ ঢুকলে সাথে সাথে অ্যালার্ট পাবেন। পাঁচ হলো রেকর্ডিং। চাইলে ভিডিও রেকর্ড করে রাখতে পারবেন। এই পাঁচটা কারণে পুরোনো ফোন ফেলে না রেখে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। যা যা লাগবে। শুরু করার আগে কয়েকটা জিনিস ঠিক করে নিন। প্রথমে একটা পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন। যেটা আর দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করেন না। দ্বিতীয়ত একটা স্ট্যান্ড বা ট্রাইপড। ফোনটা সোজা করে বসানোর জন্য। তৃতীয়ত ভালো একটা ওয়াইফাই সংযোগ। কারণ ফোনটা সব সময় ইন্টারনেটে থাকতে হবে। চতুর্থত একটা চার্জ। ফোনটা তে সব সময় চার্জ রাখতে হবে। পঞ্চমত সিসিটিভি অ্যাপ। এর মধ্যে যেকোনো একটা ব্যবহার করতে পারেন। এই পাঁচটা জিনিস ঠিক থাকলেই কাজ শুরু করতে পারবেন। কোন অ্যাপ ব্যবহার করবেন এ কাজের জন্য অনেক অ্যাপ আছে। তবে কয়েকটা খুব ভালো কাজ করে। প্রথমটা AlfredCamera। এটা সবচেয়ে জনপ্রিয়। সেটআপ খুব সহজ। একটা ফোন ক্যামেরা আর একটা ফোন ভিউয়ার হিসেবে কাজ করে। ফ্রি ভার্সনেও ভালো ফিচার পাবেন। দ্বিতীয়টা IP Webcam। এটা দিয়ে ফোনকে আইপি ক্যামেরা বানানো যায়। ব্রাউজার দিয়েও দেখা যায়। তৃতীয়টা Manything। এটাও ভালো কাজ করে। মোশন ডিটেকশন আর ক্লাউড রেকর্ডিং আছে। চতুর্থত AtHome Camera। এটার ইন্টারফেস সহজ। নতুনদের জন্য ভালো। আমি এখানে AlfredCamera দিয়ে দেখাবো কারণ এটা সবচেয়ে সহজ আর ফ্রি। ধাপ ১ অ্যাপ ইনস্টল করুন প্রথমে পুরনো ফোনটায় গুগল প্লে স্টোর থেকে AlfredCamera অ্যাপ ইনস্টল করুন। এরপর আপনার বর্তমান ফোনেও একই অ্যাপ ইনস্টল করুন। দুইটা ফোনেই একই জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন। এটা জরুরি। না হলে দুইটা ফোন একসাথে কাজ করবে না। এই ধাপটা একটু মন দিয়ে করুন। কারণ লগইন ঠিক না হলে পরের ধাপে সমস্যা হবে। ধাপ ২ পুরনো ফোনটাকে ক্যামেরা বানান পুরনো ফোনে অ্যাপ খুলেন। তারপর Camera অপশন সিলেক্ট করেন। এখানে একটা কোড দেখাবে। এই কোডটা লিখে রাখবেন বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখবেন। এরপর ফোনটাকে একটা স্ট্যান্ডে বসান। এমন জায়গায় রাখবেন যেখান থেকে পুরো ঘর বা দরজা দেখা যায়। ফোনটা চার্জ করে রাখবেন। কারণ এটা সব সময় চালু থাকবে। ওয়াইফাই সংযোগ ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। এখানে একটা কথা মনে রাখবেন। ফোনটা এমন জায়গায় রাখবেন না যেখানে সরাসরি রোদ পড়ে। এতে ফোন গরম হয়ে যেতে পারে। ধাপ ৩ আপনার ফোনটাকে ভিউয়ার বানান এবার আপনার বর্তমান ফোনে AlfredCamera অ্যাপ খুলেন। Viewer অপশন সিলেক্ট করেন। পুরনো ফোনে যে কোডটা রেখেছিলেন সেটা এখানে বসান। দুইটা ফোন একসাথে কানেক্ট হয়ে যাবে। এখন আপনার হাতের ফোন থেকেই পুরনো ফোনের ক্যামেরা দেখতে পাবেন। একবার কানেক্ট হয়ে গেলে পরে আর কোড দিতে হবে না। অ্যাপ নিজেই মনে রাখবে। ধাপ ৪ মোশন ডিটেকশন চালু করুন অ্যাপের সেটিংসে গিয়ে Motion Detection চালু করেন। এটা চালু থাকলে কেউ ঘরে ঢুকলে বা নড়াচড়া করলে সাথে সাথে আপনার ফোনে অ্যালার্ট আসবে। চাইলে সেনসিটিভিটি কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিতে পারেন। খুব বেশি সেনসিটিভ রাখলে পোষা প্রাণী বা পর্দার নড়াচড়াতেও অ্যালার্ট আসবে। তাই সেনসিটিভিটি এমনভাবে সেট করুন যাতে শুধু দরকারি নড়াচড়াতেই অ্যালার্ট আসে। ধাপ ৫ রেকর্ডিং চালু করুন আপনি চাইলে ভিডিও রেকর্ড করে রাখতে পারেন। অ্যাপের সেটিংসে গিয়ে Recording চালু করুন। ফ্রি ভার্সনে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে বেসিক রেকর্ডিং করা যায়। চাইলে ক্লাউড স্টোরেজেও সেভ করতে পারেন। তবে এজন্য প্রিমিয়াম লাগবে। রেকর্ডিং চালু রাখলে পরে কোনো কিছু ঘটলে সেটা দেখে বোঝা যায় কী হয়েছে। আরও কিছু টিপস ফোনটা এমন জায়গায় রাখেন যেখান থেকে পুরো ঘর বা দরজা স্পষ্ট দেখা যায়। রাতে ভালো দেখার জন্য ফোনের ফ্ল্যাশ বা ছোট একটা লাইট ব্যবহার করতে পারেন। অথবা এমন জায়গায় রাখেন যেখানে রাস্তার আলো পড়ে। ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে দিন। এতে ব্যাটারি কম খরচ হবে। ওয়াইফাই যেন সব সময় চালু থাকে সেটা নিশ্চিত করুন। ওয়াইফাই বন্ধ হলে ক্যামেরা কাজ করবে না। অ্যাপের অটো স্টার্ট চালু করে রাখেন। ফোন রিস্টার্ট হলেও অ্যাপ নিজে থেকেই চালু হবে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে সিসিটিভি সিস্টেম অনেক ভালোভাবে কাজ করবে। সতর্কতা একটা কথা মনে রাখবেন। পুরনো ফোনের ব্যাটারি খুব দুর্বল থাকে হঠাৎ চার্জ শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই ফোনটা চেক করে দেখবেন চার্জ আছে কিনা। আরেকটা কথা হলো নিজের বাসার সিসিটিভি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। অ্যাপে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন। দুই ধাপের ভেরিফিকেশন চালু রাখেন। তাছাড়া ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ডও শক্তিশালী রাখুন। না হলে অন্য কেউ আপনার ক্যামেরা দেখে ফেলতে পারে। শেষ কথা এই পদ্ধতিতে আপনার পুরনো ফোনটাই হয়ে উঠবে একটা স্মার্ট সিসিটিভি ক্যামেরা। খরচ বলতে শুধু একটু বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেট। বাসায় না থাকলেও মন শান্ত থাকবে। কারণ ফোন দিয়েই সব দেখতে পারবেন। চাইলে এটা দিয়ে বাচ্চাদের মনিটর করতেও পারবেন। বা বয়স্ক মানুষের দেখাশোনার জন্যও ব্যবহার করতেও পারবেন। কিংবা দোকান বা অফিসেও লাগাতে পারবেন। তাহলে আর দেরি কেন। আজই আপনার পুরনো ফোনটা বের করেন আর সিসিটিভি বানিয়ে ফেলেন। আমি মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।
পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সিসিটিভি ক্যামেরা বানানোর সহজ উপায় | Techtunes
আপনার বাসায় কি পুরনো একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন পড়ে আছে। যেটা আর ব্যবহার করেন না। বিক্রি করলে বেশি দাম পাবেন না। আবার ফেলে দেওয়াও যায় না। তাহলে আজকে এমন একটা কাজ শিখে নিন যেটা দিয়ে সেই ফোনটাই কাজে লাগবে। আজকের এই টিউটোরিয়ালে দেখাবো কিভাবে আপনার পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এর জন্য আলাদা কোনো ক্যামেরা কেনার দরকার নেই। ইন্টারনেট সংযোগ আর একটা অ্যাপ থাকলেই হবে। ঘরে থাকেন বা বাইরে থাকেন নিজের ফোন থেকেই বাসার সবকিছু দেখতে পারবেন। ভাবেন তো একবার। ব...

লেখক সম্পর্কে
TA Shanto
Administrator
’m a passionate Full-Stack Developer with a strong focus on building fast, scalable, and user-friendly web applications.I specialize in modern JavaScript technologies like React, Next.js, and Tailwind CSS ✨. and I love working within the React ecosystem. On the backend, I have solid experience with Node.js, Express.js, and Prisma⚡. allowing me to build reliable and efficient APIs and services. Recently, I’ve been primarily working with a stack I truly enjoy: Typescript, Nextjs, TailwindCss, Node.js, Express.js, and Prisma ⚡ I really love this stack. I strongly believe in continuous learning and self-improvement. Whether the situation is ideal or challenging, I always strive to grow and adapt. Every project is an opportunity to learn something new and build something impactful. Feel free to reach out — I’d love to connect! iamtashanto@gmail.com